এক সময় জনপ্রিয়, এখন নিষিদ্ধ: এই ওষুধ খেলেই ভয়ংকর বিপদ | Medicine Ban

এক সময় জনপ্রিয়, এখন নিষিদ্ধ: এই ওষুধ খেলেই ভয়ংকর বিপদ | Medicine Ban

একসময় Nimesulide নামের ওষুধটি খুব পরিচিত ছিল। মাথাব্যথা, দাঁতের ব্যথা, জ্বর, শরীর ব্যথা—এইসব সমস্যায় অনেকেই এই ওষুধ খেতেন। এমনকি অনেক ডাক্তারও আগে এটি লিখে দিতেন। কিন্তু ধীরে ধীরে দেখা গেল, এই ওষুধটি শরীরের জন্য যতটা উপকারী মনে করা হচ্ছিল, ততটা নিরাপদ নয়। শেষ পর্যন্ত ভারত সরকার এই ওষুধটিকে ব্যান করে দেয়।

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now

এই লেখায় সহজ ভাষায় জানবো—
Nimesulide কী ছিল,
আগে মানুষ কেন এটি ব্যবহার করত,
সরকার কেন এটি বন্ধ করে দিল,
আর এখন কেন এই ওষুধ খাওয়া উচিত নয়।

Nimesulide আসলে কী ধরনের ওষুধ ছিল?

Nimesulide ছিল এক ধরনের ব্যথানাশক ও জ্বালা কমানোর ওষুধ। সহজ ভাষায় বললে, যেকোনো ব্যথা বা শরীরের ভেতরের ফোলাভাব কমাতে এটি ব্যবহার করা হতো।

অনেক মানুষ এটি খেতেন—

  • মাথাব্যথা হলে
  • দাঁতের ব্যথায়
  • জ্বরের সময়
  • মাসিকের ব্যথায়
  • পেশি বা জয়েন্টের ব্যথায়

কারণ এটি তুলনামূলক দ্রুত কাজ করত এবং সাময়িকভাবে আরাম দিত।

আগে মানুষ কেন এত বেশি এই ওষুধ ব্যবহার করত?

Nimesulide জনপ্রিয় হওয়ার কয়েকটা বড় কারণ ছিল—

১. দ্রুত কাজ করত

অন্যান্য অনেক ব্যথার ওষুধের তুলনায় এটি দ্রুত ব্যথা কমাত। তাই যারা তাড়াতাড়ি আরাম পেতে চাইতেন, তারা এটাকেই বেছে নিতেন।

২. প্রায় সব ব্যথায় ব্যবহার হতো

মাথাব্যথা থেকে শুরু করে পেটব্যথা বা শরীর ব্যথা—সব ক্ষেত্রেই অনেকে এই ওষুধ খেতেন।

৩. সহজে পাওয়া যেত

আগে অনেক সময় ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন ছাড়াও এটি পাওয়া যেত। ফলে মানুষ নিজের ইচ্ছেমতো খেতে শুরু করে দেন, যা পরে বড় সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

তাহলে সরকার কেন Nimesulide ব্যান করল?

যখন এই ওষুধ নিয়ে বেশি বেশি গবেষণা হতে শুরু করল, তখন ভয়ংকর কিছু তথ্য সামনে এল।

১. লিভারের উপর মারাত্মক প্রভাব

মানুষের শরীরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর একটি হলো লিভার। এই লিভারই শরীরের ভেতরের বিষাক্ত উপাদান পরিষ্কার করে।
গবেষণায় দেখা যায়, Nimesulide খেলে অনেকের ক্ষেত্রে লিভারের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। কারও কারও ক্ষেত্রে এমনকি লিভার ফেইলিওরের মতো অবস্থাও দেখা গেছে।

Also Read:  How to link mobile number with driving licence – সম্পূর্ণ গাইড (২০২৬)

২. শিশুদের জন্য বিশেষভাবে বিপজ্জনক

বিশেষজ্ঞরা লক্ষ্য করেন, শিশুদের শরীরে এই ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আরও বেশি হয়। তাই শিশুদের ক্ষেত্রে এটি ব্যবহার করা একেবারেই নিরাপদ নয় বলে ধরা হয়।

৩. দীর্ঘদিন খেলে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়

অনেক মানুষ ব্যথা হলেই দিনের পর দিন এই ওষুধ খেতেন। এতে শরীরে ধীরে ধীরে বিষক্রিয়া জমতে শুরু করে, যা একসময় বড় অসুখের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

এই সব কারণ একসঙ্গে বিচার করে ভারত সরকার মানুষের স্বাস্থ্যের কথা ভেবে এই ওষুধটিকে বাজার থেকে তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

এখন কেন এই ওষুধ খাওয়া উচিত নয়?

সরকারি নিষেধাজ্ঞা আসার পরও অনেকে ভাবেন—“আগে তো খেতাম, এখন খেলেই বা কী হবে?”
কিন্তু আসল সত্যটা হলো—ঝুঁকি এখনো একই রকম আছে।

Nimesulide শরীরে ঢুকে প্রথমেই লিভারের উপর চাপ ফেলে। যদি লিভার দুর্বল হয় বা আগে থেকেই কোনো সমস্যা থাকে, তাহলে এই ওষুধ খেলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।

এর কিছু সম্ভাব্য ক্ষতিকর দিক হলো—

  • লিভার ইনফেকশন
  • জন্ডিস
  • পেটের ভেতরে ব্যথা
  • বমি ভাব
  • চোখ ও ত্বক হলুদ হয়ে যাওয়া

এসব লক্ষণ দেখা দিলে বুঝতে হবে শরীর বিপদে পড়েছে।

তাহলে এখন ব্যথা হলে কী করবেন?

ব্যথা হলে এখন আর নিজের ইচ্ছেমতো ওষুধ খাওয়া ঠিক নয়। আগে অনেকেই সরাসরি Nimesulide খেতেন, কিন্তু এখন সেই জায়গায় নিরাপদ বিকল্প আছে।

ডাক্তাররা সাধারণত এখন—

  • প্যারাসিটামল
  • অন্য নিরাপদ ব্যথানাশক
  • বা প্রয়োজনে বিশেষ ওষুধ

দিতে বলেন, যেগুলোর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তুলনামূলক কম।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা—
ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধই নিয়মিত খাওয়া উচিত নয়।

শেষ কথা

একসময় Nimesulide ছিল খুব পরিচিত একটি ব্যথার ওষুধ। মানুষ ভাবত, এটা খেলেই দ্রুত আরাম পাওয়া যায়। কিন্তু পরে যখন বোঝা গেল—এই আরামের আড়ালে লুকিয়ে আছে বড় বিপদ, তখন সরকার মানুষের স্বাস্থ্যের কথা ভেবে এটিকে ব্যান করার কঠিন সিদ্ধান্ত নেয়।

Also Read:  How to Apply for Driving License Online in West Bengal: অনলাইন ড্রাইভিং লাইসেন্স কিভাবে বানাবো

আজকের দিনে এই ওষুধ খাওয়া মানে নিজের শরীরকে অযথা ঝুঁকির মধ্যে ফেলা। তাই ব্যথা বা জ্বর হলে এখন সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হলো—ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে নিরাপদ চিকিৎসা নেওয়া।

কারণ সাময়িক আরামের চেয়ে
দীর্ঘদিন সুস্থ থাকা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top