BNS 85 ধারা সহজভাবে জানুন
আমাদের সমাজে অনেক সময় দেখা যায়—কোনো স্বামী মদ খেয়ে বাড়ি এসে স্ত্রীর সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে, গালিগালাজ করে, এমনকি মারধরও করে। অনেক নারী ভয়ে, লজ্জায় বা সংসার ভাঙার আশঙ্কায় চুপ করে থাকেন। কিন্তু সত্যিটা হলো—আইন আপনার পাশে আছে।
ভারতের নতুন আইন BNS (ভারতীয় ন্যায় সংহিতা)-র ধারা ৮৫ এই ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
এই লেখায় আমরা সহজ ভাষায় বুঝে নেব—
স্বামী যদি মদ খেয়ে এসে স্ত্রীর উপর অত্যাচার করে, তাহলে তার কী শাস্তি হতে পারে এবং স্ত্রীর কী অধিকার আছে।
BNS 85 ধারা আসলে কী বলে?
অনেকেই মনে করে—
“মদ খেয়ে ছিল, তাই ভুল হয়ে গেছে।”
কিন্তু আইন একদম পরিষ্কারভাবে বলে—
👉 নিজের ইচ্ছায় মদ খেয়ে কেউ অপরাধ করলে, সেই অপরাধের দায় সে এড়াতে পারে না।
👉 নেশার অজুহাত কোনোভাবেই অপরাধ ঢাকার কারণ হতে পারে না।
অর্থাৎ, স্বামী যদি মদ খেয়ে এসে স্ত্রীর গায়ে হাত তোলে বা অত্যাচার করে, তাহলে সে পুরোপুরি আইনের আওতায় পড়বে।
কী ধরনের অত্যাচার হলে আইন প্রযোজ্য হয়?
স্বামী যদি নেশার অবস্থায়—
- স্ত্রীকে মারধর করে
- গালিগালাজ করে
- ভয় দেখায় বা হুমকি দেয়
- নিয়মিত মানসিক চাপ দেয়
- ঘর থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করে
তাহলে এগুলো সবই আইনি অপরাধ হিসেবে ধরা হয়।
ধাপে ধাপে আইন কীভাবে কাজ করে?
ধাপ ১: অভিযোগ জানানো
স্ত্রী চাইলে—
- থানায় গিয়ে অভিযোগ করতে পারেন
- মহিলা হেল্পলাইনে ফোন করতে পারেন
- লিখিত অভিযোগ দিতে পারেন
এখানে লজ্জা পাওয়ার কিছু নেই। আপনি অন্যায়ের শিকার, অপরাধী নন।
ধাপ ২: পুলিশ ব্যবস্থা নেবে
অভিযোগ পেলে পুলিশ—
- মামলা নথিভুক্ত করবে
- প্রয়োজনে স্বামীকে আটক করতে পারে
- তদন্ত শুরু করবে
ধাপ ৩: আদালতে মামলা যাবে
তদন্তের পর বিষয়টি আদালতে গেলে বিচারক দেখবেন—
- অপরাধ কতটা গুরুতর
- আগে এমন ঘটনা হয়েছে কিনা
- স্ত্রী কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন
এই সব দেখে শাস্তি ঠিক হবে।
স্বামীর কী কী শাস্তি হতে পারে?
অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী শাস্তি বদলাতে পারে।
১) যদি মারধর বা অত্যাচার কম মাত্রার হয়
- জরিমানা
- কয়েক মাসের জেল
- আদালতের কড়া সতর্কবার্তা
২) যদি অত্যাচার গুরুতর হয়
- এক থেকে কয়েক বছর পর্যন্ত জেল
- মোটা অঙ্কের জরিমানা
- স্ত্রীর চিকিৎসার খরচ দিতে বাধ্য করা
৩) যদি নিয়মিত অত্যাচার চলে
- কঠোর সাজা
- জামিন পেতে সমস্যা হতে পারে
- আদালত থেকে স্ত্রীর কাছাকাছি না যাওয়ার নির্দেশ আসতে পারে
একটা ভুল ধারণা ভাঙা দরকার
অনেক নারী মনে করেন—
“ও মদ খেয়েছিল, তাই করেছে। আসলে ও খারাপ মানুষ না।”
কিন্তু সত্যিটা হলো—
👉 মদ মানুষকে অপরাধ করতে বাধ্য করে না, শুধু তার আসল রূপটা বের করে আনে।
👉 আর আইন চোখ বন্ধ করে এটা মেনে নেয় না।
একজন স্ত্রী হিসেবে আপনার অধিকার
আপনার অধিকার আছে—
- নিরাপদে বাঁচার
- সম্মান পাওয়ার
- নির্যাতন ছাড়া সংসার করার
- আইনের সাহায্য পাওয়ার
আপনাকে মারধর করা, অপমান করা বা ভয় দেখানো—কোনোটাই স্বামীর অধিকার নয়।
আপনি বা আপনার পরিচিত কেউ এই পরিস্থিতিতে থাকলে
চুপ করে সহ্য করবেন না।
আজ চুপ থাকলে, কাল অত্যাচার আরও বাড়ে।
আপনি চাইলে—
- থানায় অভিযোগ করুন
- মহিলা সুরক্ষা কেন্দ্রে যান
- বিশ্বাসযোগ্য কারও সাহায্য নিন
একটা কথা মনে রাখবেন—
আইনের কাছে আপনি একা নন।
উপসংহার
BNS 85 ধারা আমাদের স্পষ্টভাবে শেখায়—
নেশার অজুহাতে কেউ অপরাধ করে পার পায় না।
স্বামী যদি মদ খেয়ে এসে স্ত্রীর উপর অত্যাচার করে, তাহলে সে পুরোপুরি আইনের আওতায় পড়ে এবং তার জেল, জরিমানা ও কঠোর শাস্তি হতে পারে।
ভয় নয়,
লজ্জা নয়—
নিজের অধিকার জানাই আসল শক্তি।
আপনি যদি অন্যায়ের শিকার হন,
মনে রাখবেন—
আইন আপনার পাশে আছে।












