PMEGP লোন কিভাবে পাবেন, আবেদন পদ্ধতি, সাবসিডি ও লোনের পূর্ণ গাইড

PMEGP লোন কিভাবে পাবেন, আবেদন পদ্ধতি, সাবসিডি ও লোনের পূর্ণ গাইড

আজকের সময় অনেক যুবক এবং নারী উদ্যোক্তা নিজের ব্যবসা শুরু করতে চান। কিন্তু সবচেয়ে বড় বাধা হয় মূলধন। এই সমস্যা সমাধানের জন্য সরকার এনেছে PMEGP লোন স্কিম, যার মাধ্যমে নতুন ব্যবসা শুরু করার জন্য লোন এবং সরকারের পক্ষ থেকে সাবসিডি দেওয়া হয়।

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now

এই আর্টিকেলে আমরা জানব—PMEGP লোন কী, কত টাকা পাওয়া যায়, কত সাবসিডি, এবং KVIC অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে কীভাবে আবেদন করবেন।

PMEGP লোন কী?

PMEGP মানে হলো প্রধানমন্ত্রী কর্মসংস্থান সৃষ্টি প্রকল্প
এই স্কিমের মূল উদ্দেশ্য হলো—নতুন উদ্যোক্তাদের ব্যবসা শুরু করতে সহায়তা করা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা
লোনের সঙ্গে সরকার কিছু অংশ অর্থাৎ সাবসিডি দেয়, যাতে উদ্যোক্তার মোট বোঝা কমে যায় এবং ব্যবসা সহজে শুরু করা যায়।

কত টাকা লোন পাওয়া যায়?

ব্যবসার ধরন অনুযায়ী লোনের সীমা ভিন্ন হয়:

  • উৎপাদন/Manufacturing ব্যবসা: সর্বোচ্চ ৫০ লক্ষ টাকা
  • সার্ভিস বা ছোট ব্যবসা/Trading: সর্বোচ্চ ২০ লক্ষ টাকা

সাবসিডি লোনের মধ্যে যুক্ত থাকে, তাই পুরো টাকা শোধ করতে হয় না।

সাবসিডি কত পাবেন?

সাবসিডি মূলত উদ্যোক্তার বোঝা কমানোর জন্য।

  • গ্রামীণ এলাকায় ব্যবসা করলে: প্রায় ২৫–৩৫%
  • শহরে সাধারণ প্রার্থীদের জন্য: প্রায় ১৫–২৫%
  • মহিলা, সংখ্যালঘু, তফসিলি জাতি বা প্রতিবন্ধী প্রার্থীদের জন্য: আরও বেশি

উদাহরণ: যদি ব্যবসার খরচ ১০ লাখ টাকা হয় এবং গ্রামে নতুন ব্যবসা শুরু করেন, তবে প্রায় ৩ লাখ টাকা সরকার দেবে। বাকিটা ব্যাংকের লোন হিসেবে পাবেন।

যোগ্যতা

  • ভারতীয় নাগরিক হতে হবে
  • বয়স ১৮+
  • নতুন ব্যবসা শুরু করতে হবে
  • বড় লোনের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা: ৮ম শ্রেণি পাশ
  • আগে সরকারি কোনো স্কিম থেকে সুবিধা নেওয়া না থাকলে আবেদন করতে পারবেন

KVIC অনলাইন পোর্টাল ব্যবহার করে আবেদন

ধাপ ১: রেজিস্ট্রেশন

  • KVIC পোর্টালে “New User Registration” করুন
  • নাম, মোবাইল, ইমেল, আধার কার্ড নম্বর দিন
  • User ID ও Password সংরক্ষণ করুন
Also Read:  টাকা পাঠানোর আগে কিভাবে বুঝবেন ব্যক্তি জেনুইন নাকি ফ্রড? | অনলাইন প্রতারণা থেকে বাঁচার সম্পূর্ণ গাইড | Complete Online Fraud Safety Guide

ধাপ ২: আবেদন ফর্ম পূরণ

  • লগইন করে “PMEGP Online Application” ফর্ম খুলুন
  • ব্যবসার ধরন, খরচ, ব্যাংক তথ্য এবং ব্যক্তিগত তথ্য পূরণ করুন
  • ব্যবসার Project Report আপলোড করুন
  • সব তথ্য যাচাই করে “Submit” করুন
  • অ্যাপ্লিকেশন আইডি ও পাসওয়ার্ড সংরক্ষণ করুন

ধাপ ৩: EDP ট্রেনিং

  • প্রয়োজন অনুযায়ী Entrepreneurship Development Programme (EDP) করতে হয়
  • এটি সাধারণত ২–৩ দিনের ট্রেনিং
  • ব্যবসা পরিচালনার মৌলিক জ্ঞান শেখায়
  • ট্রেনিং শেষ হলে লোনের প্রথম কিস্তি পাওয়া যায়

ধাপ ৪: ব্যাংকের যাচাই

  • ব্যাংক ডকুমেন্ট এবং Project Report যাচাই করে
  • সব ঠিক থাকলে লোন অনুমোদন হয়
  • সরকার প্রদত্ত সাবসিডি ব্যাংকের মাধ্যমে লোনের অংশ হিসেবে পৌঁছে যায়

ধাপ ৫: টাকা পাওয়া এবং ব্যবসা শুরু

  • ব্যাংক ধাপে ধাপে টাকা পাঠায়
  • উদ্যোক্তা সেই টাকা দিয়ে ব্যবসা শুরু করেন
  • ব্যবসা শুরু হওয়ার ৬ মাসের মধ্যে কাজ শুরু করা আবশ্যক

লোনের সুবিধা

  • নতুন উদ্যোক্তাদের সহজ লোন
  • সরকার থেকে সাবসিডি
  • ব্যবসার শুরুতে আর্থিক বোঝা কমে যায়
  • নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি
  • আত্মনির্ভরশীল হওয়ার সুযোগ

শেষ কথা

PMEGP লোন শুধুই টাকা পাওয়ার জন্য নয়, এটি নতুন উদ্যোক্তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের সুযোগ
যদি আপনি ভারতীয় নাগরিক, নতুন ব্যবসা শুরু করতে চান এবং সঠিক পরিকল্পনা তৈরি করতে পারেন, তাহলে KVIC অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে সহজেই আবেদন করতে পারেন।
সঠিক পরিকল্পনা, পূর্ণ ডকুমেন্ট এবং সময়মাফিক আবেদন আপনার ব্যবসা সফল করার চাবিকাঠি।

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top